• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পাঠশালার সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেনো১৫ সিরিজ প্রেজেন্টস ফটোগ্রাফি কনটেস্টের বিজয়ী ঘোষণা করলো অপো জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মুক্তাগাছায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: দলের আদর্শ, অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সাগর তরুণদের ক্ষমতায়নে ১৫ জন ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিলো অপো হরমুজ প্রণালির জলপথে স্বস্তি: হাত মেলাল ইরান ও ওমান ভূমধ্যসাগরে ১০ দিন ভাসল নৌকা, ২৯ বাংলাদেশি উদ্ধার, প্রাণ গেল ১০ জনের কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন অ্যাপ আনলো ফেসবুক মাত্র ২১ মিনিটেই বদলে ফেলুন সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ত্রিশালে দুই শিশুর করুণ পরিণতি, এক উঠানে খেলা, এক পুকুরে শেষ
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আজকের মেইল ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

ঢাকা অফিস
আপডেট: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের বিষ্ণপুর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করায় ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে কৃষক সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ জানা যায়, বিষ্ণপুর মৌজার বড়িল বিল সংলগ্ন পূর্বপার্শ্বে সিরাজুল ইসলাম ও তার ভাই শফিকুল ইসলাম ৬৩৪ দাগের ১০৪ শতাংশ জমিতে গত এক মাস পূর্বে হরি ধানের চারা রোপন করে। জমিজমা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে একই এলাকার মৃত আঃ হামিদের পুত্র মোঃ নজমুল হুদা ফকিরের সাথে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। এসব বিষয়ে নাজমুল হুদা ফকির গোপনে ও প্রকাশ্যে শত্রুতা করে আসছিল বলে অভিযোগে পাওয়া যায়। সিরাজুল ইসলাম গত ২৯ আগস্ট সকালে তার ১০৪ শতাংশ ধানক্ষেতে গিয়ে ধানের চারার ওপর অস্বাভাবিক দাগ ও বিষ প্রয়োগের আলামত দেখতে পান। পরবর্তীতে তার ছোট ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম ধানক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান ক্ষেতের অধিকাংশ ধানের চারা গাছ শুকিয়ে মরে গেছে। অন্যদিকে নাজমুল হুদা ফকির সিরাজুল ইসলামের ছোট ভাই শফিকুল ইসলামের সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমোতে স্প্রে মেশিন সহ ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করবে বলে ম্যাসেজ পাঠায়। পরবর্তীতে নাজমুল ৩০/০৮/২৬ ইং তারিখ সকাল সাড়ে সাত টার দিকে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগে পাওয়া যায়।

সরেজমিনে গেলে বাদী সিরাজুল ইসলাম জানান, তার পিতার ক্রয় সূত্রে ১০৪ শতাংশ জমির মধ্যে ২৬ শতাংশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মৃত আঃ হামিদের পুত্র মোঃ নজমুল হুদা ফকিরের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি এসএ ২৭৩ নম্বর খতিয়ান নিয়েই মূলত বিরোধ। খতিয়ানের মালিক আলী মদ্দিন খাঁ ১৯৬৪ সালে সাফ-কাওলা দলিলের মাধ্যমে ২৬ শতাংশ জমি বাবর আলী ফকিরের কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে বাবর আলী ফকিরের পুত্র আঃ হামিদ ২০০১ সালে ১০৪ শতাংশ জমি রজব আলীর নিকট বায়না পত্রের মাধ্যমে বিক্রি করেন, এবং পরবর্তীতে আঃ হামিদ ২০০১ সনেই ৭৮ শতাংশ, আর বাবর আলী ২৬ শতাংশ জমি সাফ কাওলা দলিল মূলে রজব আলী বরাবর হস্তান্তর করেন। তন্মধ্যে ২৬ শতাংশ জমি বাবর আলীর নামে বিআরএস রেকর্ড না হয়ে ভূল বশত আঃ হামিদ এর নামে বি আর এস রেকর্ড হয়ে যায়। আনুমানিক ৪,৫ মাস পূর্বে রজব আলীর পুত্র গণ খারিজ করতে গিয়ে জানতে পারেন য, বাবর আলী জমি সহ আঃ হামিদ এর নামে বিআরএস রেকর্ড হয়ে গেছে। পরবর্তীতে মৃত আঃ এর পুত্র মোঃ নাজমুল হুদা ফকিরকে উক্ত বিষয় জানাইলে সে তার নামে খারিজ করে দিতে বলে, পরে সে দলিল সংশোধন করে দিবে। কিন্তু তার নিজের নামে খারিজ করার পর দলিল ঠিক করে দেওয়ার কথা বললে, সে নিজের জমি দাবি করে বসে এবং ছয় লক্ষ টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে সিরাজুল ইসলাম নায়েবের সাথে পরামর্শ করে খারিজ বাতিল করে কিন্তু খারিজ বাতিল করা হলেও নজমুল হুদা গোপনে পুনরায় আবারও খারিজ করে ফসলি জমিতে বিষ প্রয়োগ করে ক্ষতি করে জমি দখলের পায়তারা করছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, নাজমুলের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু নাজমুল অসৎ উপায় অবলম্বন করায় আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও নজমুল যে কোন সময় আমার বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলতে পারে আমি ও আমার পরিবার জীবনের নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। এ ব্যপারে সিরাজুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধানের চারাগুলো শুকিয়ে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তবে ধানক্ষেতে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নাজমুল হুদা ফকিরের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলে তিনি জানান, এ বিষয়টি মিমাংশা হয়ে যাবে। তবে ইমোতে ম্যাসেজ পাঠিয়ে বিষ প্রয়োগের ব্যাপারটি তিনি অস্বীকার করেন।

এ ব্যাপারে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই মামুনকে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে তারা বিষয় প্রয়োগের ব্যাপারে আইনী সহায়তা চাইলে সহায়তা প্রদান করা হবে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ