শূন্য দশকের কবি কাজী নাসির মামুনের জন্মদিন উপলক্ষে ময়মনসিংহে অনাড়ম্বর সাহিত্যিক আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবির উপস্থিতিতে তাঁর কবিতা, সাহিত্যকর্ম ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন কবি-সাহিত্যিকরা।
কবি আশরাফ মীরের সভাপতিত্বে এবং ফেরদৌসুল মনিরা লাবনীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জন্মদিন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কবি শাখাওয়াত বকুল। অনুষ্ঠান শুরুর আগে সভাপতি ও উদযাপন কমিটির সদস্যরা কবিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং মঞ্চে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে কবি কাজী নাসির মামুনের বিভিন্ন গ্রন্থ ও কবিতা নিয়ে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক আল মাকসুদ, শামীম সিদ্দিকী, রোকন শাহরিয়ার সোহাগ, কাজী শহীদ ও সুরঞ্জিত বাড়ই। এছাড়া জুবায়ের পারভেজ, আবুল কালাম আজাদ, রহমান হাবীব, আলী ইউসুফ ও কামাল মুহম্মদ শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
লেখক লাবিব আব্দুল্লাহ কবির কবিতার দর্শন ও সাহিত্যভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পরে কবি ও সম্পাদক সরকার আজিজ, এহসান হাবীব, তামিরুল তাসনীম জিসান ও জুঁই কবির বিভিন্ন কবিতা পাঠ করে শোনান।
আলোচনায় কবি কাজী নাসির মামুনের রাজনৈতিক দর্শন বিশেষ গুরুত্ব পায়। বক্তারা তাঁর ‘রাষ্ট্রনৈতিক সনেটগুচ্ছ’ ও ‘রোহিঙ্গাপুস্তকে আত্মহত্যা লেখা নেই’ গ্রন্থের সাহসী বক্তব্য এবং কবিতায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার উপস্থাপনার প্রশংসা করেন।
বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসা তাঁর কবিতা ‘ইন্তিফাদা’ নিয়ে বক্তারা আলোচনা করেন। তাঁদের মতে, ওই কবিতায় তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং ফ্যাসিবাদের বিকল্প নিয়ে কবি তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছিলেন।
অনুষ্ঠানে সত্তর দশকের কবি শামসুল ফয়েজ কাজী নাসির মামুন এখনো বড় কোনো সাহিত্য পুরস্কার না পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন। কবি ইয়াজদানী কোরায়শী তাঁর সাহিত্যজীবনকে ‘ঈর্ষণীয় কবিতাময় যাপন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আয়োজক কমিটি ও উপস্থিত সবার পক্ষ থেকে কবি কাজী নাসির মামুনকে ‘অনিত দর্শনের কবি’ অভিধায় ভূষিত করা হয়। এ সময় তাঁর হাতে একটি মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। কবি সাঈদ ইসলাম ও সানোয়ার রাসেল তাঁর কবিতায় ‘অনিত দর্শন’-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সাহিত্যিক এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবির জন্মদিন উদযাপনের পাশাপাশি তাঁর কবিতা, দর্শন ও সমকালীন সাহিত্যচর্চা নিয়েও প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।