আল কুরআন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নিজ অর্থায়নে খেরুয়াজানী ইউনিয়নের চলাচলের অযোগ্য কাঁচা রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ, পাশে শত শত এলাকাবাসী
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ১০নং খেরুয়াজানী ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকা কাঁচা রাস্তাগুলো সংস্কারে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সমাজসেবী সাঈদুজ্জামান সাঈদ। কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক প্রত্যাশা নয় সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব এবং এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই তিনি নিজের অর্থায়নে ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে শুরু হওয়া সংস্কার কার্যক্রমে এলাকার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে তার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। ফলে এটি এখন শুধু একজন ব্যক্তির উদ্যোগ নয়; বরং পরিণত হয়েছে মানুষের পাশে মানুষের দাঁড়ানোর এক অনন্য দৃষ্টান্তে।
দীর্ঘদিন ধরে খেরুয়াজানী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অনেক কাঁচা রাস্তা বর্ষা ও অতিবৃষ্টিতে ভেঙে গিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদায় পরিণত হয়েছে রাস্তা, আবার কোথাও সামান্য বৃষ্টিতেই পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এমন বাস্তবতায় মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে বিবেচনা করে এগিয়ে এসেছেন সাঈদুজ্জামান সাঈদ। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ১০নং খেরুয়াজানী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড থেকে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের যেসব কাঁচা রাস্তা বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী, সেগুলো তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে সংস্কার করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
ইতোমধ্যে এরই অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বন্দগোয়ালিয়া গ্রামের দেবগ্রাম রোডের পাকা রাস্তার মাথা থেকে লক্ষীপুর পর্যন্ত এবং কালিবাড়ি থেকে দেবগ্রাম পাকা রাস্তা পর্যন্ত সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। ৯নং ওয়ার্ড থেকেই এই সংস্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে।
সংস্কারকাজ শুরুর সময় সেখানে দেখা যায় এক আবেগঘন দৃশ্য। এলাকার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে সংস্কার কাজে অংশ নেন। কেউ শ্রম দিয়ে, কেউ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে, আবার কেউ উৎসাহ দিয়ে এই উদ্যোগকে সফল করার চেষ্টা করছেন। এলাকার ইউপি সদস্য নূরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করে এ কাজে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুরবস্থার কারণে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় থেকে অনেক সময় পার হলেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী।
সাঈদুজ্জামান সাঈদের এই মহতী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে আল কুরআন ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে মানুষের চলাচলের পথকে সহজ ও স্বাভাবিক করার এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তা সংস্কারের এই উদ্যোগকে ঘিরে তাদের মধ্যে এক ধরনের নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, একজন মানুষ যখন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসেন, তখন সেই উদ্যোগ অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করে। আর ঠিক এমনটাই ঘটছে খেরুয়াজানী ইউনিয়নে। সাঈদের উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফুর্তভাবে সংস্কারকাজে অংশ নিচ্ছেন।
শুধু রাস্তা সংস্কার নয়, এলাকার মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাঈদুজ্জামান সাঈদ। তিনি মনে করেন, সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষের উচিত নিজের অবস্থান থেকে অসহায় ও দুর্ভোগে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো। মানুষের জন্য কিছু করার মধ্যে যে আত্মতৃপ্তি রয়েছে, তা অন্য কোনো অর্জনের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।
তার এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা একজন ব্যক্তির সাধারণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে তারা মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। কারণ, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা। একটি ভালো রাস্তা শুধু মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেয় না—এটি শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেয়, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যায়, অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে সাহায্য করে এবং একটি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করে।
তাই দীর্ঘদিনের অচল রাস্তা সংস্কারে সাঈদুজ্জামান সাঈদের এই উদ্যোগকে স্থানীয়দের অনেকেই মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসার বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ৯নং ওয়ার্ড থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে ১০নং খেরুয়াজানী ইউনিয়নের অন্যান্য দুর্গম ও চলাচলের অযোগ্য রাস্তাতেও ছড়িয়ে পড়বে। তার এই মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে এলাকার আরও মানুষ সম্পৃক্ত হবেন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
একজন মানুষের উদ্যোগ যখন শত মানুষের অংশগ্রহণে গণমানুষের উদ্যোগে পরিণত হয়, তখন সেটিই হয়ে ওঠে প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়। খেরুয়াজানীর মাটিতে সাঈদুজ্জামান সাঈদের উদ্যোগ যেন সেই বার্তাই দিচ্ছে—মানুষের জন্য কাজ করতে সবসময় বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের অপেক্ষা করতে হয় না; আন্তরিক ইচ্ছা, মানবিক মন ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাহস থাকলেই পরিবর্তনের সূচনা করা সম্ভব।
সাঈদুজ্জামান সাঈদের এই উদ্যোগ শুধু কয়েকটি রাস্তা সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ মানবিক কর্মকাণ্ডের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাই এখন এলাকাবাসীর।