মুক্তাগাছা উপজেলার ২নং বড়গ্রাম ইউনিয়নের মোগলটুলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ছফির উদ্দিন খান ও তার ভাই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি, আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম খান ওরফে ভিপি মানিকের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল বানিয়ে স্কুলের দাতা সদস্যপদ নেয়া, পকেট কমিটি করে অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ নিয়ে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগসহ জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মোঃ ছফির উদ্দিন খান ও রফিকুল ইসলাম খান ওরফে ভিপি মানিক সহোদর ভাই। ভিপি মানিক বড়গ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা ও শহীদ স্মৃতি সরকারী কলেজের কথিত সাবেক ভিপি। আওয়ামী নেতা পরিচয়ে ও সাবেক সাংসদ, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী কেএম খালিদ ও সাবেক মেয়র বিল্লাল হোসেনের ছত্রছায়ায় ২০১২ সাল থেকে বিদ্যালয়ে ভুয়া জমির দলিল দিয়ে দাতা সদস্য হন। সেই সাথে তার ভাই কবির খান ও ভাবী হাবিবা খাতুনকে দাতা সদস্য নিযুক্ত করেন। তিনি দাতা সদস্যের আধিক্য ও সাবেক মন্ত্রী খালিদের মতাদর্শে সহজেই পকেট কমিটি গঠন করে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে ঘুষ আদায়, স্কুলের অর্থ আত্মসাৎ, জবাবদিহি না করে উল্টো মামলা করার ভয়ভীতি দেখানোসহ স্কুল সংলগ্ন জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন। নিকটাত্মীয় মুস্তাক আহমেদ মাসুমকে স্কুলের পুকুর নামমাত্র লিজ দেন। যার অর্থের কোন খোজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে অভিযোগকারী। অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলের নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্টরা জানায়, স্কুলের আয়-ব্যায়ের হিসাব সম্পর্কে আমরা জানতে চাইলে কখনো জানায়নি। সাবেক সভাপতি ও তার বড় ভাই, ভাবীর দলিল আছে কিনা জানি না। তবে জমির কোন খোঁজ নেই। দাতাদেরও অর্থের কোন হদিস নেই। আদৌ তারা দিয়েছে কিনা জানি না। পূর্বে নির্বাচন হতো সিলেকশনের মাধ্যমে । ওদের মদদপুষ্ট ব্যাক্তিকে নিয়ে কমিটি গঠন করা হতো। ফ্যাসিস্ট আচরণ ও রাজনৈতিক প্রভাবে আমাদেরকে সবসময় কোনঠাসা করে রেখেছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ ছফির উদ্দিন খান বলেন, এ সকল অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। স্কুলটি ভালো একটা অবস্থায় নিয়ে আসাতে ইর্ষান্বিত হয়ে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী সম্পূর্ণ নিয়মনীতি মেনেই জমি দান ও অর্থ দান করেই দাতা সদস্য হয়েছেন। জমি দখলের অভিযোগকে মিথ্যাচার ও তার ভাইয়ের দান করা জমি বলে জানান তিনি।
স্থানীয় মুর্শেদুজ্জামান খান জানান, আমার বাবা মরহুম খন্দকার নূরুল হালিম ডালিম মৌলভী ৩৩ শতাংশ, বড় ভাই খন্দকার জহুর ২০ শতক ও আমি ১৭ শতক জমি দান করি। আমার জমিগুলোর ওপর ভুয়া দলিল করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তার ভাই সাবেক সভাপতি মানিক স্কুলটাকে লুটপাট করে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি এ লুটপাটকারীদের শাস্তির দাবী করছি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মুগলটুলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পাবার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে ্এবং তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন সাপেক্ষে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।