সাংবাদিকতা তার পেশার শুরু, যেখানে তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কাজ করেছেন ঢাকা টাইমস, দি রিপোর্ট ২৪ ডটকম, বিডিলাইভ২৪ডটকম, অনলাইন বাংলা পত্রিকা, দৈনিক আমাদের অর্থনিতি পত্রিকায় এবং ছিলেন দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস-এর সাব-এডিটর। সমাজের নানা অসংগতি, বঞ্চিত মানুষের কষ্ট এবং অধিকার আদায়ের লড়াই তার লেখনির মাধ্যমে উঠে আসত। যদিও এখন আর সাংবাদিকতা তার পেশা নয়, তবুও তিনি এখনো ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু তুলে ধরেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন।
সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও সাধারণ মানুষের সেবা করার মানসিকতা তাকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। করোনাকালীন সময়ে তিনি সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। স্বাস্থ্যঝুকি জেনেও সেবা দিতে গিয়ে ২০২০ সালে ২৭ এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হন। সেখান থেকে সুস্থ হয়ে আবারো ফিরে জান তার পেশায়।

তারিকুল ইসলাম ছোটন জন্মগ্রহণ করেছেন ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার কালি বাড়ি বটতলা গ্রামে। শিক্ষা জীবনে তিনি ২০০৫ সালে এসএসসি এবং ২০০৭ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার সহধর্মিণীও একজন স্বাস্থ্যসেবিকা, যিনি একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে কর্মরত। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, যারা তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
তার বড়ভাই মামুন আল গাইয়ুম একজন শিক্ষক ও সাংবাদিক। পারিবারিক বন্ধন তাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে তারিকুল ইসলাম ছোটন মুক্তাগাছার নতুন বাজার এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করলেও সময় পেলেই ছুটে যান তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কালিবাড়ি বটতলায়।
ছোটন একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। বাংলার রূপ দেখা তার অন্যতম শখ। সুযোগ পেলেই তিনি প্রকৃতির সান্নিধ্যে ছুটে যান, গ্রামের সবুজ প্রকৃতিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেন। একইসঙ্গে, তিনি সবসময় হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত, যিনি মানুষের সাথে সহজেই মিশে যেতে পারেন। সাংবাদিকতা ছেড়ে দিলেও সাংবাদিকদের সাথে তার হৃদয়ের সম্পর্ক অটুট আছে। সময় পেলেই তিনি প্রেসক্লাবের আড্ডায় যোগ দেন, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান।

তারিকুল ইসলাম ছোটন শুধু একজন সরকারি কর্মচারী নন, তিনি একজন দায়িত্ববান পিতা। তার সন্তানদের তিনি সময় দেন, মাঝে মাঝেই খেলার মাঠে তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায়। পাশাপাশি, সমাজের অসংগতি দূর করতে তার প্রচেষ্টা থেমে নেই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতভাবে সমাজের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লেখেন, যা মানুষকে সচেতন করে।
তারিকুল ইসলাম ছোটন একজন সংগ্রামী মানুষ, যিনি জীবনের নানা পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। একজন সাংবাদিক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে ওঠার যাত্রায় তিনি দায়িত্ব ও কর্তব্যের জায়গা কখনোই ভুলে যাননি। মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা, প্রকৃতিকে ভালোবাসা, পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা—এই সবকিছু মিলিয়ে তিনি এক অনন্য মানুষ। সমাজের প্রতি তার ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তাকে সত্যিকার অর্থে একজন অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে।