ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় যানজট নিরসন ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে দিনটি দিতে পারেন) দরিচার আনি বাজার, বড় মসজিদ রোড ও থানার সামনের এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর এক প্লাটুন সদস্য সহযোগিতা করে।
অভিযানে বেশ কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তার একাংশ দখল করে রেখেছিল। প্রশাসনের দাবি, এসব অবৈধ স্থাপনা যানজট বাড়াচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছিল। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আকস্মিক এই উচ্ছেদ অভিযানে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্দশা
দরিচার আনি বাজার এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া ১৬টি দোকান স্থানীয় বড় মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে চারটি দোকানের পজিশন বিক্রি করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ, আর বাকি ১২টি দোকানের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিটি দোকানের জন্য ৭০ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
১৪ বছর ধরে লুঙ্গির ব্যবসা করে আসা ইদ্রিস আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এই ব্যবসার উপরই আমার সংসার চলে। এখন আমি কী করবো?” আরেক ব্যবসায়ী সুলতান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের সময় আমাদের ব্যবসার মৌসুম। অথচ কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদের দোকান ভেঙে দেওয়া হলো। এখন কীভাবে চলবো?”
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, অভিযানের সময় মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো সহযোগিতা করেনি, বরং তাদেরই ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “অবৈধ দোকান কেউ যদি ভাড়া নেয়, তাহলে এর দায় তাকেই নিতে হবে। পূর্বে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা ফুটপাত দখল করে রেখেছিল, তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানের সময় ইসলাম পরিবহনকে সতর্ক করা হয় যাতে তারা রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে। এসময় একটি গাড়ি আটক করে থানায় পাঠানো হয়। পাশাপাশি, রাকিব বিরানী হাউস ও বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বিকল্প ব্যবসার সুযোগ ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন। তাদের প্রশ্ন, “আমাদের দোষ কী? আমরা তো মসজিদের কাছ থেকে বৈধভাবে দোকান নিয়েছিলাম। এখন আমাদের জীবিকা কীভাবে চলবে?”
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতি কতটা আন্তরিক হয় এবং তাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না।