রেকর্ড পরিমাণ কাটছাঁট: উন্নয়ন বাজেটে বড় পরিবর্তন
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে এবছর ৪৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ কমানো হয়েছে, যা গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমনকি করোনাভাইরাস মহামারির সময়ও এত বড় পরিমাণে বাজেট কমানো হয়নি।
এই বাজেট কাটছাঁটের পেছনে পাঁচটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে: ১. আওয়ামী লীগ সরকারের পতন 2. উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় স্থগিত রাখা 3. অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর নীতিমালা 4. প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা 5. দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি
সোমবার (৩ মার্চ) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়। শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও এনইসি চেয়ারপার্সন ড. মোহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “আমরা চাইছি আরএডিপি ছোট থাকুক। বড় বাজেট দিয়ে ব্যয় করতে না পারলে সেটি ভালো দেখায় না। এবার বাজেট ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসছে। রাজস্ব ঘাটতি বেশি থাকায় বরাদ্দও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন যে, সব প্রকল্পকে ইএমআইএস সফটওয়্যারে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রকল্পের আপডেট না থাকলে অর্থমন্ত্রণালয় অর্থছাড় করবে না। প্রকল্প গ্রহণের পরিবেশগত দিকগুলোর ওপর এবার বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
বর্তমান অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ৪৯ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।
মূল এডিপিতে চলমান প্রকল্প ছিল ১,৩৫২টি। সংশোধিত এডিপিতে এটি বেড়ে ১,৪৩৭টিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অননুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা কমিয়ে ৭৭০ করা হয়েছে, যা মূল এডিপিতে ছিল ৯১০।
১. পরিবহন ও যোগাযোগ: ৪৮,২৫৩ কোটি টাকা 2. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি: ৩১,৮৯৭ কোটি টাকা 3. শিক্ষা: ২০,৩৪৯ কোটি টাকা 4. গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা: ১৯,৬৫৩ কোটি টাকা 5. স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন: ১৬,৯০৯ কোটি টাকা
এই বাজেট কাটছাঁটের ফলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গতি কতটা প্রভাবিত হবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরাদ্দ কমানোর পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানো হলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।