গাজীপুরের শ্রীপুর রেলস্টেশনে স্ত্রীকে মোবাইল ফোনে বিদায় জানিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন খায়রুল বাসার সুজন (৩৫) নামের এক পোশাকশ্রমিক। তার স্ত্রী ফাতেমা শেষবারের মতো স্বামীর কণ্ঠ শুনতে পান, এরপর কেবল চলন্ত ট্রেনের শব্দই শুনতে পেয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ:
বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শ্রীপুর রেলস্টেশনে ঢাকাগামী দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন সুজন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার, দেহ থেকে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিহত সুজন কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার কুরশা গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে। তিনি গাজীপুরের চন্নাপাড়া এলাকায় জনৈক সুলতানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া:
ফাতেমা জানান, সকালে তারা একসঙ্গে বাসা থেকে বের হন, তবে সুজন আর বাসায় ফেরেননি। বিকেলে ফোন করলে তিনি জানান, শ্রীপুরে আছেন। কিছুক্ষণ পর ফের ফোন করে শুধু ‘বিদায়’ বলেন এবং এরপর ফোন কেটে দেন। পরে ফাতেমা বারবার ফোন করলেও আর সাড়া মেলেনি। সন্ধ্যার পর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পান।
প্রশাসনের বক্তব্য:
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার শামীমা জাহান বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা মানসিক কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।