মফস্বল জীবনের গল্প, সংগ্রাম, আশা-আকাঙ্ক্ষা—এসবই এক অন্যরকম ধরণের সাংবাদিকতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন মনোনেশ দাস, যিনি মুক্তাগাছা অঞ্চলের সুপরিচিত চারণ সাংবাদিক। তার লেখনিতে উঠে আসে সাধারণ মানুষের জীবনের দুঃখ-কষ্ট, সুখ-দুঃখ, এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সংগ্রাম।
১৯৭৫ সালের ২৩ মার্চ ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার মুজাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করা মনোনেশ দাসের শৈশব কাটে চা-বাগানের ছায়ায়, যেখানে কৃষকের ঘাম ঝরা ঘরবাড়ি এবং প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম ছিল তার নিত্যসঙ্গী। তার শৈশব থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন যে সংবাদ শুধু বড় শহরের নয়, মফস্বল অঞ্চলেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
সাংবাদিকতায় তার পথচলা শুরু হয় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে, যেখানে তার উদ্দেশ্য ছিল মফস্বল জীবনের গল্পগুলো শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। বিশেষ করে, সমাজের অবহেলিত শ্রেণি, যাদের সবসময় মূলধারার মিডিয়ায় উপেক্ষিত রাখা হয়, তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন তিনি। তার লেখায় নতুন ধরনের চারণ সাংবাদিকতা দেখা যায়, যা শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, বরং সেই তথ্যের প্রভাব ও পরিণতি তুলে ধরে।
মনোনেশ দাসের লেখায় মফস্বল অঞ্চলের কৃষকের ফসলের ক্ষতি, শ্রমিকদের অধিকার, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্দশা—এসব নিয়ে তাঁর প্রতিবেদন পাঠকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। তার কলম শুধু সংবাদ নয়, বরং মানবিক চেতনার প্রতিবাদী ভাষা হয়ে উঠেছে।
মনোনেশ দাসের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ, তিনি বিভিন্ন সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। নাগরিক চেতনা সাহিত্যসংঘের বিশেষ সম্মাননা তার সাংবাদিকতার প্রতি কর্তব্যনিষ্ঠার প্রমাণ। তিনি বিশ্বাস করেন, চারণ সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি একটি আন্দোলন, যা সমাজের মূলধারায় প্রান্তিক মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরবে।
মনোনেশ দাস আজও মফস্বল সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক অনন্য নাম, যার কাজ সমাজের অস্পষ্ট কণ্ঠস্বরকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
চলবে…