আকাশ কালো, গর্জন শুরু, এরপরই ঝরে পড়ল বৃষ্টি। খেয়াল করলে দেখা যায়- আকাশ থেকে যখন পানি পড়ে, ফোঁটাগুলো বেশিরভাগ সময়ই গোলাকার বা বৃত্তাকার দেখায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো- কেন এই ফোঁটাগুলো গোল হয়?
বিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে রয়েছে এক দারুণ প্রাকৃতিক কারণ- ‘পৃষ্ঠটান’ (Surface Tension)।
বিজ্ঞানের ভাষায়, তরল পদার্থের অণুগুলো একে অপরকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণের ফলে তরলটির পৃষ্ঠে একটি টান বা চাপ তৈরি হয়, যাকে বলা হয় পৃষ্ঠটান।

এই পৃষ্ঠটান জলকণাকে এমন একটি আকার নিতে বাধ্য করে, যেখানে তার পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল সবচেয়ে কম থাকে। সেই আকৃতি হচ্ছে গোল, কারণ বৃত্ত বা গোলাকার আকারে সবচেয়ে কম পৃষ্ঠ প্রয়োজন হয়।
আকাশে বৃষ্টির ফোঁটা তৈরি হয় যেভাবে
১. বাষ্প আকারে থাকা পানি জমে ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়।
২. এরা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়ে ফোঁটার আকার ধারণ করে।
৩. ফোঁটা যত ছোট, তত বেশি পৃষ্ঠটান কাজ করে।
৪. ফলে ফোঁটাগুলো নিচে পড়ার সময় নিজেরাই গোলাকৃতিতে রূপ নেয়।
তবে বড় ফোঁটা হলে, বায়ুপ্রবাহের কারণে তা বেসামান্য ডিম্বাকার বা ছাতার মতোও হতে পারে।

এটি শুধু বাংলাদেশের আকাশে নয়, বিশ্বের যেকোনো জায়গায়- বৃষ্টির ফোঁটা নিচে নামার সময় গোল হওয়াটাই নিয়মিত ঘটনা। এটি জলবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেটি আবহাওয়া বিশ্লেষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদি মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকত, তবে বৃষ্টির ফোঁটা বাতাসেই গোল গোল ভেসে থাকত!
বড় ফোঁটা বেশি ভারী হওয়ায় বেশি দ্রুত নিচে পড়ে, কিন্তু মাঝপথে বাতাসের ধাক্কায় ভেঙেও যেতে পারে।
আকাশ থেকে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা গোল হয় মূলত পৃষ্ঠটানের কারণে, যা পানির অণুগুলোর পারস্পরিক আকর্ষণের ফল। এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য না থাকলে হয়তো আমাদের দেখা বৃষ্টিও হতো ভিন্নরকম!