লুঙ্গি- একটি সাধারণ কাপড়, কিন্তু তার পরিচয়ে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনধারার প্রতিচ্ছবি। দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কায় বহুল ব্যবহৃত এই পোশাক আজও মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লুঙ্গির উৎপত্তি ঘটেছে প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, এই অঞ্চলে খ্রিস্টপূর্ব সময় থেকেই পুরুষরা এমন ধরনের ঢিলেঢালা কাপড় পরতেন, যা পরে ‘লুঙ্গি’ নামে পরিচিত হয়। আরব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘সরং’, ‘লঙ্গি’ বা ‘মাওয়াজ’ নামের কাপড় থেকেও লুঙ্গির আদল এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
বাংলাদেশে লুঙ্গি শুধু একটি পোশাক নয়, এটি গ্রামীণ মানুষের পরিচয়ের অংশ। গরম আবহাওয়ায় আরামদায়ক হওয়ায় এটি বাড়িতে, বাজারে বা অবসরের সময় ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে নরসিংদী, পাবনা, শিবচর, কুমিল্লা ও বরিশাল এলাকায় তৈরি করা লুঙ্গি দেশজুড়ে বিখ্যাত।
বিয়েতে উপহার হিসেবেও লুঙ্গি একটি প্রচলিত উপাদান। এ ছাড়া ঈদ, পূজা ও বিভিন্ন উৎসবেও অনেকেই নতুন লুঙ্গি কিনে থাকেন।
লুঙ্গি শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতের কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, এমনকি আরব অঞ্চলেও এটি ব্যবহৃত হয়। যদিও নাম ও শৈলীতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, তবে মূল দর্শন একই- আরাম ও সহজতা।
বর্তমানে লুঙ্গি শুধু ঘরের পোশাকেই সীমাবদ্ধ নেই। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ‘লুঙ্গি ড্যান্স’ কিংবা ‘লুঙ্গি উৎসব’-এর মাধ্যমে এটি একটি ফোক ফ্যাশন-এ রূপ নিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে লুঙ্গি পরা ছবি, ভিডিওর মাধ্যমে এই ঐতিহ্য নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু লুঙ্গি বিদেশে রপ্তানি হয়। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর চাহিদা রয়েছে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিক লুঙ্গি ব্যবহার করে থাকেন তাদের স্বদেশীয় জীবনধারার অংশ হিসেবে।