• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় মুক্তাগাছায় ৩ টন সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা সমাজ ও মানবিক উন্নয়নে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন মুক্তাগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল হাসান জনি মুক্তাগাছার খেরুয়াজানী ইউনিয়নে সাঈদুজ্জামান সাঈদের মানবিক উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার কাজী নাসির মামুনের জন্মদিনে ময়মনসিংহে কবিতা ও দর্শনের আসর সাধারণ মুহূর্তে অসাধারণ কিছু পাওয়াই ফটোগ্রাফি, আর অপো এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে পাঠশালার সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেনো১৫ সিরিজ প্রেজেন্টস ফটোগ্রাফি কনটেস্টের বিজয়ী ঘোষণা করলো অপো জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মুক্তাগাছায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: দলের আদর্শ, অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সাগর
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আজকের মেইল ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে।

একজন নরসুন্দর কালাচাঁন রবিদাস

শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর
আপডেট: সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

আধুনিক সেলুনের চাকচিক্য আর আরামদায়ক পরিবেশে চুল-দাড়ি কাটার সুযোগ থাকলেও, নালিতাবাড়ীর কালাচাঁন রবিদাসের ভ্রাম্যমাণ সেলুনের কদর আজও কমেনি। প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে কম খরচে মানুষের চুল-দাড়ি কেটে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

নয়াবিল ইউনিয়নের আন্ধারুপাড়া গ্রামের মানুপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, পিঁড়িতে বসে এক যুবক চুল কাটছেন, আর কালাচাঁন রবিদাস পরম যত্নে সেই কাজটি করছেন। সেখানে চুল-দাড়ি কাটার জন্য অপেক্ষারত আরও কয়েকজন মানুষ।

একসময় দেশের হাটবাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দরদের দেখা মিলত। কালের বিবর্তনে তাদের সংখ্যা এখন খুবই কম। কালাচাঁন রবিদাসের বাড়ি সিধুলি গ্রামে। ৪৫ বছর বয়সী এই নরসুন্দর দুই যুগের বেশি সময় ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চুল-দাড়ি কাটেন। আক্ষেপ করে কালাচাঁন জানান, তার সাথে যারা ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দর হিসেবে কাজ করতেন, তাদের অনেকেই এখন পেশা পরিবর্তন করেছেন অথবা আধুনিক সেলুনে কাজ করছেন। আর্থিক অভাবের কারণে সেলুন দিতে না পারায়, তিনি এখনও ভ্রাম্যমাণ নরসুন্দর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ভ্রাম্যমাণ সেলুনে রয়েছে চিরুনি, কাপড়, ছোট আয়না, ক্ষুর, কাঁচি, ক্রীম, ফিটকিরি ও একটি টুল। কম খরচে যারা চুল-দাড়ি কাটতে চান, তারাই মূলত তার প্রধান গ্রাহক।

কালাচাঁন বলেন, এই পেশায় এখন আর আগের মতো আয় নেই। দিনে ২শ থেকে ৩শ টাকা রোজগার হয়। আধুনিক সেলুনগুলোর কারণে মানুষ এখন আর খোলা জায়গায় চুল কাটাতে চায় না। অভাবের সংসারে ডাল-ভাত জোগানোই কঠিন, তাই আধুনিক সেলুন করার স্বপ্ন তার কাছে আকাশকুসুম। কালাচাঁন রবিদাসের দুই মেয়েকে এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে সিধুলী গ্রামে বসবাস করেন।

কালাচাঁনের নিয়মিত গ্রাহক সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কালাচাঁনের কাছে সেভ করেন এবং তার কাজে তিনি সন্তুষ্ট। মুকুল হোসেন জানান, কালাচাঁন রবিদাস ভ্রাম্যমাণ নাপিত হলেও তার কাজের মান বেশ ভালো। ছোটবেলা থেকেই তিনি তাদের বাড়িতে এসে চুল কেটে দিয়ে যান।


এই বিভাগের আরো সংবাদ