তবে হামলার পর প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রাথমিকভাবে সেই লেনদেন ব্যাহত হয়। উদ্যোক্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।
তাদের একজন পরে জানান, তিনি আরব আমিরাতের অন্য একটি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থটি তার সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন।
শতাধিক অন্যান্য এশিয়ার ধনী ব্যক্তি একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন বা খোঁজখবর করছেন যাতে দুবাইয়ে রাখা সম্পদ তারা আঞ্চলিক আর্থিক কেন্দ্র সিঙ্গাপুর বা হংকয়ে সরিয়ে নিতে পারেন। মনটাই জানিয়েছেন শিল্প পরামর্শদাতা ও আইনজীবীরা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপদ আশ্রয়ের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের মোট সম্পদ ৫.৪২ ট্রিলিয়ন দিরহাম (প্রায় ১.৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানায়।
তবে এখন এই প্রবণতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ দুবাই ও আবুধাবিতে হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইনজীবী রায়ান লিন বলেন, তার ২০ জন দুবাইভিত্তিক ক্লায়েন্টের মধ্যে ছয়–সাতজন এই সপ্তাহে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যাদের গড় সম্পদের পরিমাণ ৫০ মিলিয়ন ডলার, তাদের মধ্যে তিনজন অবিলম্বে সম্পদ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছেন।
আন্তর্জাতিক কর্পোরেট ও ফান্ড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডারসন গ্লোবালের প্রধান আইরিস জু বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্পদ ফিরিয়ে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার বিষয়ে এই সপ্তাহে ১০–২০টি পারিবারিক অফিস তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কারণ সংঘাত দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।
পারিবারিক অফিস হলো ধনী পরিবারের বিনিয়োগ পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান।
“আগে দুবাই মূলত কর সুবিধার জন্য আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু এখন সেই সুবিধা তাদের অগ্রাধিকার নাও হতে পারে,” বলেন তিনি।
“সংঘাত কালই শেষ হয়ে গেলেও বারবার যাতায়াত করা কঠিন হবে। এটি আস্থার বিষয়,” বলেন ওই উপদেষ্টা।