ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বাড়িতে হামলা চালিয়ে নারীসহ তিনজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় এক গৃহবধূর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার মানকোন ইউনিয়নের ধিতুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মোছা: বতিতা আক্তার (৩৭) বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক (৫৫) ও আব্দুল মতিনসহ তাদের পরিবারের সঙ্গে বতিতা আক্তারের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
পরে বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে বতিতা আক্তারের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এতে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা বতিতা আক্তার, তার স্বামী আব্দুল কাদির এবং পুত্রবধূ মোছা: সালেহা খাতুনকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীদের একজন লোহার রড দিয়ে সালেহা খাতুনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে তাঁর তলপেটেও আঘাত করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় বতিতা আক্তার ও তার পুত্রবধূর শ্লীলতাহানি করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক সালেহা খাতুনের গলা থেকে প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বতিতা আক্তার ও তাঁর স্বামীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে পুত্রবধূ সালেহা খাতুনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনা তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তাগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসিবুল হাসান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াদিন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।