ডরসির নতুন অ্যাপটির নাম বিটচ্যাট। এই অ্যাপের বিশেষত্ব হলো এটি ইন্টারনেট বা মোবাইল ডেটা ছাড়াই কাজ করতে পারে। পুরো যোগাযোগ প্রক্রিয়াটি নির্ভর করবে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ওপর। অর্থাৎ কাছাকাছি থাকা দুটি বা একাধিক ডিভাইসের মধ্যে ব্লুটুথের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা যাবে।
সাধারণ মেসেজিং অ্যাপগুলো যেখানে সার্ভার এবং ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে বিটচ্যাট ব্যবহার করে সরাসরি এক ডিভাইস থেকে আরেক ডিভাইসে বার্তা পাঠানো সম্ভব হবে। প্রযুক্তিগতভাবে এটিকে পিয়ার-টু-পিয়ার (Peer-to-Peer) যোগাযোগ ব্যবস্থা বলা হয়। এতে মোবাইল ফোন নিজেই প্রেরক ও গ্রহণকারী হিসেবে কাজ করে, মাঝখানে কোনো ইন্টারনেট সার্ভারের প্রয়োজন হয় না।
এই অ্যাপের মাধ্যমে বার্তা পাঠাতে হলে ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে থাকতে হবে। সাধারণত ব্লুটুথের কার্যকর দূরত্ব প্রায় ১০০ মিটার হলেও বিটচ্যাটে তা বাড়িয়ে প্রায় ৩০০ মিটার পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা মানুষরা সহজেই ইন্টারনেট ছাড়াই যোগাযোগ করতে পারবেন।
বর্তমানে বিটচ্যাট অ্যাপটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি চালু করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অ্যাপ বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক সময় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন যোগাযোগের বড় সংকট তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট ছাড়াই কাজ করতে পারে এমন মেসেজিং অ্যাপ মানুষকে জরুরি বার্তা পৌঁছে দিতে সহায়তা করতে পারে।
এই কারণেই অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে সংকটকালীন যোগাযোগের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে বিটচ্যাট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী অ্যাপটি চালু হয়, তাহলে এটি মেসেজিং প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।