নিচে বিষয়গুলো একটু মেনে চললে আপনার পরিবারের ঈদ হবে আনন্দময় এবং নিরাপদ-
ভ্রমণের আগে প্রস্তুতি
– বাচ্চার ক্রলিক রোগের ওষুধ (যেমন খিঁচুনি রোগ, হাঁপানি, ডায়াবেটিস, রক্তরোগ, হৃদরোগ, কিডনি রোগ) যদি থাকে সঙ্গে নিন।
– ওরালস্যালাইন, থার্মোমিটার, নাকের ড্রপ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখলে ভালো।
– বাচ্চার টিকাদান আপডেট আছে কিনা দেখে নিন।
যাত্রাপথে যত্ন
– বাস/গাড়িতে বমি প্রবণতা থাকলে যাত্রার পূর্বে হালকা খাবার দিন, খুব ভরা পেট রাখবেন না।
– শিশুকে কোলে নিলে শক্তভাবে ধরে রাখুন; সম্ভব হলে সিটবেল্ট ব্যবহার করুন।
– অপরিচিত লোকের কাছ থেকে বা দোকান থেকে খাবার নেওয়া এড়িয়ে চলুন, প্রয়োজনে ঘরে তৈরি করা স্ন্যাকস জাতীয় খাবার সাথে নিন।
ঈদ মানেই সেমাই, পোলাও, কোরমা… কিন্তু বাচ্চার পেট সবার মতো সহ্য নাও করতে পারে।
– নতুন বা ভারী খাবার অল্প পরিমাণে দিন।
– অতিরিক্ত মিষ্টি,তৈলাক্ত খাবার, ঝাল খাবার বা কোমল পানীয় কম দিন।
– রাস্তার খোলা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।
– আবহাওয়া ও পরিবেশ
গ্রামে গেলে গরম, ধুলো, পোকামাকড়ের ঝুঁকি বেশি থাকে
– হালকা, সুতি কাপড় পরান।
– মশারি বা মশা প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাখুন।
– রোদে বের হলে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করুন।
– পুকুর বা খোলা পানির কাছে একা যেতে দেবেন না।
– বাচ্চা যেন অতিরিক্ত না ঘামে সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।
স্বাস্থ্যবিধি
– খাওয়ার আগে ও টয়লেটের পরে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।
– ছোট বাচ্চারা মাটিতে খেলাধুলা করলে হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
– অন্য বাচ্চা অসুস্থ থাকলে খুব ঘনিষ্ঠ মেলামেশা কিছুটা সীমিত রাখুন।
– রুটিন যতটা সম্ভব ঠিক রাখুন
– ঘুমের সময় যেন খুব এলোমেলো না হয়।
– ছোট বাচ্চাদের দুপুরের ঘুম নিশ্চিত করুন।
– অতিরিক্ত উত্তেজনায় যেন তারা ক্লান্ত না হয়ে যায়।
কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন?
– ১০১°F এর বেশি জ্বর হলে
– বারবার বমি বা পাতলা পায়খানা হলে
– খেতে না চাওয়া ও দুর্বল হয়ে যাওয়া
– প্রস্রাব কমে যাওয়া
– শ্বাসকষ্ট বা তীব্র কাশি
ঈদ আনন্দের সময়, কিন্তু বাচ্চাদের ক্ষেত্রে একটু সচেতন থাকলে পরিবারসহ নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদ কাটানো সম্ভব।সবাইকে ঈদ উল ফিতর এর শুভেচ্ছা
লেখক: ডাক্তার খন্দকার আশিকুর জামান, এমবিবিএস, এফসিপিএস (কোর্স), আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (শিশু পালমনোলজি বিভাগ) বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউট।