• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় মুক্তাগাছায় ৩ টন সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা সমাজ ও মানবিক উন্নয়নে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন মুক্তাগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল হাসান জনি মুক্তাগাছার খেরুয়াজানী ইউনিয়নে সাঈদুজ্জামান সাঈদের মানবিক উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার কাজী নাসির মামুনের জন্মদিনে ময়মনসিংহে কবিতা ও দর্শনের আসর সাধারণ মুহূর্তে অসাধারণ কিছু পাওয়াই ফটোগ্রাফি, আর অপো এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে পাঠশালার সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেনো১৫ সিরিজ প্রেজেন্টস ফটোগ্রাফি কনটেস্টের বিজয়ী ঘোষণা করলো অপো জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মুক্তাগাছায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: দলের আদর্শ, অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সাগর
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আজকের মেইল ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে।

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় দুই সপ্তাহে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৮০ কোটি ডলার

ঢাকা অফিস
আপডেট: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহেই প্রায় ৮০ কোটি ডলারের (৬০০ মিলিয়ন পাউন্ড) ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (সিএসআইএস) এবং বিবিসির যৌথ এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পরপরই প্রথম সপ্তাহে তেহরানের ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলায় অধিকাংশ ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। যদিও মার্কিন সামরিক সম্পদের মোট ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও পরিষ্কার নয়, তবুও অবকাঠামোগত এই ৮০ কোটি ডলারের ক্ষতির হিসাব আগের তুলনায় অনেক বেশি। এতে বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

সিএসআইএস-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির খবর অনেকাংশে কমিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক হতে পারে, তবে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ করা কঠিন।’

এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সেন্ট্রাল কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মূল লক্ষ্য ছিল জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামো। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জর্ডানের একটি বিমান ঘাঁটিতে থাকা ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেডার আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, একটি এএন/টিপিওয়াই-২ রেডার সিস্টেমের মূল্য প্রায় ৪৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া আবাসন ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলিয়ে আরও প্রায় ৩১ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের হামলার শুরু থেকেই রেডার ও স্যাটেলাইট অবকাঠামো প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। বাহরাইনের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর স্যাটেলাইট চিত্রে দুটি র‌্যাডোম ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এতে স্যাটেলাইট ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, যদিও এর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি।

এদিকে কুয়েতের আল ক্যাম্প আরিফিন এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতেও রেডার স্থাপনায় হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেডার এলাকা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা বড় ধরনের ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানে এই ব্যবস্থার ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নতুন করে থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, “আমরা ইরানে অত্যন্ত ভালো অবস্থানে আছি।” তিনি মনে করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস এবং শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করার লক্ষ্য অর্জনের দিকেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্লেষকদের মধ্যে। সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ১,১৩০ কোটি ডলার, যা ১২ দিনে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৫০ কোটি ডলারে।

পেন্টাগন ইতোমধ্যে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ডলার বরাদ্দ চেয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেছেন, এই ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তার ভাষায়, “মন্দ শক্তিকে দমন করতে অর্থের প্রয়োজন হয়।”


এই বিভাগের আরো সংবাদ