ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার।
বার্লিনে জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এই যুদ্ধকে একটি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ এবং ‘অপ্রয়োজনীয় সংঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেওয়া এই ভাষণে স্টাইনমায়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমার মতে, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। কোনো আসন্ন হামলার অজুহাত দিয়ে এই যুদ্ধের যে যৌক্তিকতা দেখানো হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই।”
জার্মান প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, অতীতে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্পের সেই চুক্তি থেকে সরে আসা এবং বর্তমানে সামরিক পথ বেছে নেওয়া একটি চরম ভুল পদক্ষেপ।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই যুদ্ধটি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল। এটি একটি রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।” স্টাইনমায়ার তার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরার ইঙ্গিত দেন।
তিনি বলেন, “২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর যেমন পরিস্থিতি আর আগের মতো ফেরেনি, তেমনি ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর আটলান্টিক পাড়ের দেশগুলোর (যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ) সম্পর্কে যে গভীর ফাটল ধরেছে, তা আর আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।”
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ যেখানে এই যুদ্ধে ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছেন, সেখানে প্রেসিডেন্ট স্টাইনমায়ারের এই সরাসরি ও কঠোর সমালোচনা বিশ্বরাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্টের পদটি জার্মানিতে মূলত আনুষ্ঠানিক, তবে তার এই বক্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তিরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ অভিযান শুরু হয়, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।