মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবগুলোকে সোমবার ইরান ‘অবাস্তব, অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত’ বলে বর্ণনা করেছে। এতে হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি দ্রুত না হলে ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনা ও খারগ দ্বীপের জ্বালানি তেলের অবকাঠোমো ধুলিতে মিশিয়ে মিশিয়ে দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলা নো কিংস বিক্ষোভকে ইঙ্গিত করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান বলেছেন, হুমকি-ধমকি বন্ধ করে আগে নিজের ঘরের দিকে নজর দেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে কূটনীতিকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে। ট্রাম্পও সোমবার জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে আলোচনা সফলভাবে এগোচ্ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরান যুদ্ধে সেনা না পাঠানো ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, “এই যুদ্ধ আমাদের নয়”। আর স্পেন বলেছে, তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হামলা চালাতে পারবে না।
যুদ্ধের ৩১তম দিনে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে রাজধানী তেহরানে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়েছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার খবরের মাঝেই ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের তেল সম্পদ দখলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি চুক্তির ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথা বললেও গোপনে একটি বড় ধরনের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে।
কূটনৈতিক অঙ্গনে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসলামাবাদে যুদ্ধের ডামাডোল কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা করেছেন। তারা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন।
তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো আলোচনার আগে তারা তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করবে না। ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি কায়রো এনার্জি শো ২০২৬-এ দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মধ্যপ্রাচ্যের এই বিধ্বংসী যুদ্ধ থামানোর জন্য সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কেবল ট্রাম্পেরই এই সামর্থ্য আছে। সিসি সতর্ক করে দিয়েছেন, যুদ্ধের ফলে জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা মোটেও অতিরঞ্জিত নয়। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যম আয়ের ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশগুলোর স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটে ফেলবে।
গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করে সিসি আশা প্রকাশ করেন, তিনি আবারও একইভাবে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হবেন। এদিকে, জিসিসি মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইওয়ি ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথিরা এই যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় তেলের দাম আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ইয়েমেন থেকে আসা দুটি ড্রোনও তারা মাঝপথে ধ্বংস করেছে। এর দুই দিন আগে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিরা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে মিসাইল ছুড়েছিল। সোমবার লেবাননের হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে রকেট হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী বলেছে, তারা তেহরানের তথাকথিত সামরিক অবকাঠামো এবং বৈরুতে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা চালিয়েছে, যার ফলে লেবাননের রাজধানীর আকাশে কালো ধোঁয়া দেখা গেছে।
ট্রাম্প সোমবার ইরানকে আবারও সতর্ক করে বলেছেন, হয় তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দিক, নয়তো তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার ঝুঁকি নিক।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা পেয়েছে যে ওয়াশিংটন আলোচনা করতে আগ্রহী।
এর আগে রবিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান, মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মধ্যস্থতার বিষয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসেছিলেন।
কিন্তু বাঘাই মার্কিন প্রস্তাবের সমালোচনা করে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা সামরিক আগ্রাসনের শিকার। তাই আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ও শক্তি এখন নিজেদের রক্ষায় নিয়োজিত।”
পাকিস্তানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত কম মনে হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব এটি করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি।”
বাঘাই বলেছেন, ইরানের পার্লামেন্ট ‘পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসারণ চুক্তি’ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এই চুক্তি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে পারমাণবিক শক্তির গবেষণা ও ব্যবহারের অধিকার দেয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান আক্রমণ করার অন্যতম কারণ হিসেবে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে আটকাতে চান। তবে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে।
রবিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘সরাসরি ও পরোক্ষভাবে’ বৈঠক করছে। তবে একইসঙ্গে তিনি এই অঞ্চলে আরও মার্কিন সৈন্য পাঠাচ্ছেন এবং ইরানও হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রেখে তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “অনেক উন্নতি হয়েছে কিন্তু যদি কোনো কারণে দ্রুত কোনো চুক্তি না হয়, যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে এবং যদি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলের খনি ও খারগ দ্বীপ উড়িয়ে দিয়ে ও পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে আমাদের এই সুন্দর ‘ইরান সফর’ শেষ করব।”
মাসব্যাপী এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে, যাতে হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে এবং জ্বালানি সরবরাহে ইতিহাসের সবচাইতে বড় বিঘ্ন ঘটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে আঘাত করছে।
এই যুদ্ধের সময় ইরান আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত রবিবার দক্ষিণ লেবাননে একটি বিস্ফোরণে ইন্দোনেশিয়ার একজন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত এবং অন্য একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ২.৪২ ডলার বা ২.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে এবং এটি এক মাসের মধ্যে রেকর্ড বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
ইসরায়েলে হুথিদের হামলার ফলে দ্বিতীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদাব প্রণালী তাদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার এবং সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভান্ডা ইনসাইটসের বন্দনা হরি বলেছেন, তেলের বাজার এখন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে এবং তারা সামরিক সংঘাত ব্যাপক হারে বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও রবিবার ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্ভব এবং যুদ্ধে নিহত ইরানি নেতাদের জায়গায় যারা এসেছেন তারা ‘যুক্তিবাদী’ বলে মনে হচ্ছে, তার পরেও বন্দনা হরি এমন মন্তব্য করেছেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ট্রাম্পের একটি সাক্ষাৎকার উদ্ধৃত করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খারগ দ্বীপ দখল করে নিতে পারে, যেখান থেকে ইরান তার বেশিরভাগ তেল রপ্তানি করে। তবে তিনি এও বলেছেন, দ্রুত যুদ্ধবিরতি হতে পারে। অবশ্য খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে স্থল সৈন্যের প্রয়োজন হবে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে, যা ট্রাম্পকে স্থল অভিযানের সুযোগ দেবে; তবে তিনি এখনো এই ধরণের কোনো পরিকল্পনায় অনুমোদন দেননি।
ইরান সোমবার বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ ইউনিটের কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ আরও অনেক ইরানি নেতা এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন; খামেনির জায়গায় এখন তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নিয়েছেন।
তবে এই হত্যাকাণ্ড ও চার সপ্তাহের মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ইরানের মিসাইল ও ড্রোন ইউনিটগুলোকে থামিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
কুয়েত সোমবার জানিয়েছে, তাদের দেশের একটি বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানি হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পরে এতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।
ইসরায়েলের ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফাতে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটির কাছে একটি শিল্প ভবন ও জ্বালানি ট্যাঙ্কারে ভূপাতিত হওয়া মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ আঘাত হেনেছে।
হিজবুল্লাহ পরে জানিয়েছে, তারা ওই নৌঘাঁটিটিকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিল। হিজবুল্লাহর সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল বলছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশ দখল করে ‘বাফার জোন’ তৈরি করবে। এটি লেবাননের মানুষের মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক দখলের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা অস্থিতিশীলতা ও বাস্তুচ্যুতিকে আরও প্রকট করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ বলছে, ইরানে এ পর্যন্ত প্রায় ৩,৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১,৫৫০ জন বেসামরিক নাগরিক।
অন্যদিকে লেবাননের কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে প্রায় ১,২৪০ জন মারা গেছে। সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত চার শতাধিক হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছে, তবে সরকারি মৃত্যু তালিকায় এই যোদ্ধারা অন্তর্ভুক্ত কি না তা পরিষ্কার নয়। এছাড়া ইরাকে অন্তত ১০০ জন এবং ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের ২৬১ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কতজন সেনা মারা গেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি ইসরায়েল। তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আহত ৬ হাজার আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২১ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ২৩২ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।