পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চার দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। পরবর্তীতে চুরখাই কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নারায়ণ কুমার দাস মুক্তাগাছা শহরের রাজবাড়ী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ১৯৮৮ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মুক্তাগাছা পৌরসভার সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার জন্য তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত ছিলেন।
শিক্ষা বিস্তারেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুকুল নিকেতনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠার সময় প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল ‘মুঘল নিকেতন’। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে পৌরসভার চাকরি থেকে অবসরের পর ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন।
এ ছাড়া তিনি মুক্তাগাছা এমএম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবেও প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন।
তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, সাবেক শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাসভবনে ছুটে যান। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়াত এই গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নারায়ণ কুমার দাসের মৃত্যুতে মুক্তাগাছার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মুক্তাগাছা পৌর মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।