ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাবাকে শিক্ষা দিতে ছুটিতে বাড়িতে আসা সেনা সদস্য ছেলের নেতৃত্বে জুয়ার আসরে হামলার চালিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় লুৎফুর রহমান সাজু (৫৫) নামের এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। এসময় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে হামলাকারিরা পলাতক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালী টগারঘাট এলাকায় জুয়া খেলার আসরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লুৎফুর রহমান সাজু উপজেলার চন্ডিমন্ডপ চতল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
আহতরা হলেন, বিন্নাকুড়ি এলাকার আব্দুল্লাহ ওরফে লম্বা আব্দুল্লাহ, মলাজানি গ্রামে খাটো আব্দুল্লাহ ও টগারঘাটের আঃ রহিম। পরে আহতের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির কিছু নেতার নেতৃত্বে মলাজানি, বিন্নাকুড়ি, চতল, ইছাখালিসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসত। রাজনৈতিক ওই চক্র পুলিশের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর বসিয়ে আসছে। বিষয়টি স্থানীয়রা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তবে জয়াবন্ধের স্থানীয় এমপির কড়া নির্দেশনা থাকায় সম্প্রতি জুয়ারিরা অনেকটা আড়ালে গিয়ে গোপনীয়ভাবে জুয়ার আসর বসাতো।
এই জুয়ার আসরে বিন্নাকুড়ি গ্রামের আব্দুল্লাহ প্রতিনিয়ত জুয়া খেলে আসতো। আব্দুল্লাহ’র ছেলে সেনা সদস্য জাহিদুল ছুটিতে এসে বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার জুয়ার আসর ভাঙতে এবং বাবাকে শিক্ষা দিতে কিছু লোকজনকে সংগঠিত করে ঘটনা স্থলে যান। জুয়ার আসরে বাবাকে দেখতে পেয়ে সেখান থেকে ফেরাতে বাবাসহ জুয়ারিদের গালাগাল করেন।
একপর্যায়ে সেখানে থাকা লুৎফুর রহমান সাজু প্রতিবাদ করলে জাহিদুলের নেতৃত্বে তার সাথে থাকা লোকজন মিলে সাজুসহ চার জনকে মারধর করে। এতে লুৎফর রহমান সাজু অজ্ঞান হয়ে সেখানে পড়ে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন সাজুকে বেধরক মারধর করে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় সেখানে ফেলে রেখে হামলাকারীরা চলে যায়। কিছু সময় পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। বেধরক মারধরেই সাজুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন সাজু এখন কোন ধরণের জুয়ার সাথে জড়িত নয়। তবে পরিকল্পিতভাবে তাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যা করা হয়েছে।
মুক্তাগাছা থানার ওসি(তদন্ত) জুলুস খান পাঠান বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি। পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে মামলা নেয়া হবে। পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।