• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় মুক্তাগাছায় ৩ টন সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা সমাজ ও মানবিক উন্নয়নে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন মুক্তাগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল হাসান জনি মুক্তাগাছার খেরুয়াজানী ইউনিয়নে সাঈদুজ্জামান সাঈদের মানবিক উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার কাজী নাসির মামুনের জন্মদিনে ময়মনসিংহে কবিতা ও দর্শনের আসর সাধারণ মুহূর্তে অসাধারণ কিছু পাওয়াই ফটোগ্রাফি, আর অপো এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে পাঠশালার সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেনো১৫ সিরিজ প্রেজেন্টস ফটোগ্রাফি কনটেস্টের বিজয়ী ঘোষণা করলো অপো জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মুক্তাগাছায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: দলের আদর্শ, অর্জন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সাগর
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আজকের মেইল ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে।

সড়ক-মহাসড়কের পাশে অবৈধ হাট-বাজার বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনা

ঢাকা অফিস
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৫

অবৈধ হাটবাজারে দেশের সড়ক-মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সরকারের মহাসড়কের পাশের হাটবাজার অপসারণের উদ্যোগ নেই। দেশের উচ্চ আদালত নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ হাটবাজার, স্থাপনা ও পার্কিং অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এক বছর আগে নির্দেশ দিয়েছিলো। দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে আড়াই শতাধিক অবৈধভাবে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট-বাজার গড়ে ওঠেছে। ওসব হাট-বাজারে আসা ছোট ছোট যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে যানজট তীব্র আকার নিচ্ছে। মাঝেমধ্যেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিভিন্ন সময়ে মহাসড়কের আশপাশে থাকা হাট-বাজার ও অবৈধ অবকাঠামো সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর অপসারণ করে। কিন্তু অপসারণের মাসখানেকের মধ্যেই পুনরায় ওই ধরনের স্থাপনা গড়ে ওঠে। আর আইনসিদ্ধভাবেই তা হয়। কারণ ২০২৩ সালের হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইনের বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে হাট ও বাজার স্থাপন করতে পারে। যদিও সড়কের দুই পাশে ১০ মিটারের মধ্যে হাট-বাজার কিংবা স্থায়ী বা অস্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা ২০২১ সালের মহাসড়ক আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। সেজন্য অনূর্ধ্ব দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আর দুই আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থার কারণে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কসহ প্রায় সব সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাট-বাজারসহ অবৈধ স্থাপনা ও অবকাঠামো। ওসব স্থাপনা ও অবকাঠামো মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজটের অন্যতম কারণ। সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে দেশের সড়ক-মহাসড়কের পাশে অবৈধ হাটবাজার, সড়কগুলোয় প্রয়োজনীয় সাইন সিগন্যাল না থাকা এবং নকশাগত ত্রুটি। তাছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন, থ্রি-হুইলার ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাসহ নানা ব্যবস্থাপনাগত কারণেও ঘটছে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে সড়ক। ২০২৪ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৪৮০ জন প্রাণ হারিয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু সড়কে বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা রোধে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি বর্তমান সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সূত্র আরো জানায়, দেশের সড়ক-মহাসড়কের পাশে কী পরিমাণ হাটবাজার ও অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তার সঠিক তথ্য নেই। তবে সওজ অধিদপ্তর পরিচালিত রোড সেফটি অডিট রিপোর্টে দেশের কয়েকটি জাতীয় মহাসড়কে হাটবাজারসহ অবৈধ স্থাপনার তথ্যানুযায়ী ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের (এন-১) কাঁচপুর-দাউদকান্দি অংশে ছয়টি স্থানে হাটবাজার ও অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। তাছাড়া ওই অংশে সড়কের পিচের দুই মিটারের মধ্যে ১৩টি প্রতিবন্ধক (বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ, অবকাঠামো ইত্যাদি) রয়েছে। যেগুলোর কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। মহাসড়কটির দাউদকান্দি-চট্টগ্রাম অংশে ৫৩টি স্থানে হাটবাজার, স্থায়ী বা অস্থায়ী অবকাঠামো রয়েছে। আর প্রতিবন্ধক রয়েছে ১৮টি। আর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অংশে ৩৭টি স্থানে হাটবাজার, অবকাঠামো ও ১৮০টি প্রতিবন্ধক রয়েছে। আর যানবাহন চলাচলের সংখ্যার দিক দিয়ে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত জাতীয় মহাসড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ (এন-৩)। ওই মহাসড়কের গাজীপুর-ময়মনসিংহ অংশে ২৪টি স্থানে হাটবাজার রয়েছে। তাছাড়া ১১৯টি প্রতিবন্ধক রয়েছে, যেগুলো যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে (এন-৫) ১৯টি স্থানে রয়েছে হাটবাজার। প্রতিবন্ধক রয়েছে ৩৭৫টি। কাশিনাথপুর-রাজশাহী (এন-৬) মহাসড়কে ৩৭টি স্থানে হাটবাজার রয়েছে আর প্রতিবন্ধক রয়েছে ১৩৬টি। তবে তুলনামূলক ভালো অবস্থা পাওয়া গেছে ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে (এন-৮)। ওই মহাসড়কের সাতটি জায়গায় হাটবাজার ও আটটি প্রতিবন্ধক রয়েছে। এদিকে সওজ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান সম্প্রতি সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক এক সভায় জানান, সড়ক আইন ও হাট-বাজার আইনের মধ্যকার সাংঘর্ষিক ধারার কারণে দেশের সড়ক-মহাসড়ক থেকে হাট-বাজার অপসারণের কাজ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সীমারেখার মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা করা যাবে না। অন্যদিকে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩-এ বলা হয়েছে, যিনি ইজারা দেবেন, ডিসি অফিস বা অন্য কেউ, ওনারা যেকোনো স্থানে হাট-বাজার স্থাপন করতে পারবেন। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সওজ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ হাট-বাজার উচ্ছেদ করে। কিন্তু পরে ওই স্থানে আবার হাট-বাজার বসিয়ে দেয়া হয়। দুই আইনের মধ্যে কনফ্লিক্ট থাকায় মহাসড়কের পাশে অবৈধ হাট-বাজার অপসারণ করতে গিয়ে সওজ চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ছে। অন্যদিকে দুই আইনের মধ্যকার সাংঘর্ষিক অবস্থার বিষয়ে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, দুই আইন সংগতিপূর্ণ করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিগগির কাজ শুরু করা হবে।


এই বিভাগের আরো সংবাদ