আমাদের মূল গন্তব্য মেঘালয়ের শিলং ও চেরাপুঞ্জি। সেখানে যেতে হলে তামাবিল বা ডাউকি বর্ডার পেরোতে হবে। তাই সিলেট শহর থেকে আমাদের গাড়ি ছুটল তামাবিল স্থলবন্দরের দিকে। যাত্রাপথেই একটু তামাবিল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
তামাবিল স্থলবন্দর সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব মাত্র ৫৬ কিলোমিটার। এটি “জাফলং জিরো পয়েন্ট” নামেও পরিচিত। সিলেট-জাফলং রোড ধরে এগোলে জাফলংয়ের পাঁচ কিলোমিটার পূর্বেই তামাবিলের দেখা মিলবে।
এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। চারপাশে সবুজ পাহাড়, তার মাঝে স্বচ্ছ পানির লেক, আর দূর থেকে দেখা যায় ভারতের ঝরনা ও জলপ্রপাত! বিশেষ করে বিকেলবেলা বা গোধূলির সময় ঝরনাগুলো দেখলে যেন অন্য এক জগতে চলে যাওয়া যায়। প্রতিদিন শত শত পর্যটক এখানে ভিড় করেন এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে।
এই তামাবিল বন্দর দিয়েই ভারত থেকে বাংলাদেশে কয়লা আমদানি করা হয়। কথাবার্তার মাঝেই আমরা পৌঁছে গেলাম তামাবিল স্থলবন্দরে। ইমিগ্রেশন শেষ করে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ গেট পার হয়ে আমরা ডাউকির পথে রওনা দিলাম।
ভারতে প্রবেশের পর প্রথমেই আমরা ডাউকি ল্যান্ড পোর্টে এলাম। এখানে তাদের আতিথেয়তা দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি! কী নেই এখানে?
প্রথমেই আমাদের শরীর ও ব্যাগপত্র তল্লাশি করা হলো। এরপর কাঁচঘেরা একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা চেক করা হলো। ডলার এন্ডোর্সমেন্ট ঠিকঠাক আছে কিনা সেটিও যাচাই করা হলো। সব ঠিক থাকলে আমাদের নাম রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি করানো হলো, আর তাতেই শেষ হলো ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা!
পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা প্রশংসার দাবিদার। কোনো ঝামেলা বা অপেক্ষা ছাড়াই দ্রুত কাজ শেষ হয়ে গেল। বের হয়েই দেখি আমাদের জন্য সেই মিনিবাস দাঁড়িয়ে আছে! এখান থেকে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো নো ম্যানস ল্যান্ড বা বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ গেটের কাছে। এখন আমরা পুরোপুরি মেঘালয় ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত!
এখন আমরা যাব ডাউকি বাজারে, যেখানে টাকার বিনিময়ে রুপি বদলে নেব। তবে মনে রাখবেন, একাধিক দোকান থেকে রেট যাচাই করে নেওয়া ভালো, যাতে সঠিক রেট পাওয়া যায়।
👉 মেঘালয় ভ্রমণের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে:
পরবর্তী অংশের জন্য অপেক্ষায় থাকুন! 😊