ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার খেরুয়াজানি ইউনিয়নের গরবাজাইল-হরিপুর সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়া, পাশাপাশি রাতের আধারে নিম্নমানের সুরকি ও পোড়া মাটি ফেলে সড়ক ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর বাধার মুখে সড়কটির নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১ হাজার ৩৫ মিটার দীর্ঘ এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফেলা হয়েছে নিম্নমানের ইট ও সুরকি। স্থানীয়দের দাবি, এসব সামগ্রী এতটাই নিম্নমানের যে হাতে চাপ দিলেই ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিনের বেলা কাজ না করে রাতের আধারে ট্রাকভর্তি করে নিম্নমানের খোয়া ও পোড়া মাটি এনে সড়কে ফেলে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। এতে সড়কটি টেকসই হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গরবাজাইল এলাকার বাসিন্দা সুবেদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। অথচ এখানে রাবিশ আর পোড়া মাটি দিয়ে রাস্তা বানানোর চেষ্টা চলছে। এমন কাজ আমরা মেনে নেব না। দরকার হলে রাস্তা কাচাই থাকুক, কিন্তু খারাপ কাজ হতে দেব না।
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব মিয়া জানান, রাতে বেলা আটা থেকে দশটা ট্রাকে নিম্নমানের খোয়া এনে সড়কে ফেলে রাখা হয়েছে, যা একটি টেকসই সড়ক নির্মাণের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ১ আগস্ট এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৫ সালের ২৬ মে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার জাকাহউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটির কার্যাদেশ পেয়েছে। স্থানীয়ভাবে কাজটি তদারকি করছেন কুমারগাতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলে নাঈম এমন অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো: রবিউল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার আমাদের না জানিয়েই নিম্নমানের খোয়া ফেলেছে। বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছি। তাকে ইতিমধ্যে চিঠি ও মৌখিকভাবে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ না করা পর্যন্ত সড়কের কাজ শুরু করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে পিপিআর অনুযায়ী কার্যাদেশ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।