বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস আজ। বন তথা আবাস উজাড়, চোরা শিকার ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মতো বিভিন্ন কারণে প্রতিবছর পৃথিবী থেকে কোনও না কোনও বন্য প্রাণী চিরতরে বিলুপ্ত হচ্ছে বা বিলুপ্তির মুখে পড়ছে। বিলুপ্তপ্রায় এসব প্রাণী রক্ষা করতেই সারা বিশ্বে প্রতি বছর ৩ মার্চ বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস পালন করা হয়।
বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অর্থায়ন, মানুষ ও ধরিত্রীর উন্নয়ন’। এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং মানবজাতির অস্তিত্বের সঙ্গে প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে ৩ মার্চকে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের বন্যপ্রাণী এবং উদ্ভিদগুলোর প্রতি গণসচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য।
জাতিসংঘের এক তথ্যমতে, বর্তমানে বন্যপ্রাণী বিলুপ্তির হার গত ১০ লাখ বছরের তুলনায় অন্তত ১০ থেকে ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বিশেষজ্ঞদের মতে, লাতিন আমেরিকা ও আমাজনের বন উজাড়ের হার বৃদ্ধির ফলে ইতিমধ্যে মূল বনভূমির ১৭ শতাংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আরও ১৭ শতাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩১টি প্রজাতির প্রাণী সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে প্রায় ১,৬০০ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৯০টি প্রজাতি বিলুপ্তির আশঙ্কায় রয়েছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপকূলীয় বন বিভাগ) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আধুনিক নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে বন্যপ্রাণীদের সংখ্যা কমছে। আমরা বন উজাড় থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।”
বিশ্ব প্রাণী দিবস প্রথম প্রচলন করেন হেনরিক জিম্মারমেন, যিনি ১৯২৫ সালের ২৪ মার্চ জার্মানির বার্লিন স্পোর্ট প্যালেসে এটি উদযাপন করেন। পরে ১৯৩১ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রাণী সুরক্ষা কংগ্রেসে ৪ অক্টোবরকে বিশ্ব প্রাণী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রাণী কল্যাণের অন্যতম দিন হিসেবে পালিত হয়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আমাদের করণীয়:
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের উচিত ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রাণীকূলকে রক্ষা করা। আসুন, আমরা সবাই মিলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য একযোগে কাজ করি।