• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃক্ষরোপণ করলেন ছাত্রদল নেতা সাগর অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় মুক্তাগাছায় ৩ টন সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা সমাজ ও মানবিক উন্নয়নে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন মুক্তাগাছা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল হাসান জনি মুক্তাগাছার খেরুয়াজানী ইউনিয়নে সাঈদুজ্জামান সাঈদের মানবিক উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার কাজী নাসির মামুনের জন্মদিনে ময়মনসিংহে কবিতা ও দর্শনের আসর সাধারণ মুহূর্তে অসাধারণ কিছু পাওয়াই ফটোগ্রাফি, আর অপো এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করছে পাঠশালার সাথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেনো১৫ সিরিজ প্রেজেন্টস ফটোগ্রাফি কনটেস্টের বিজয়ী ঘোষণা করলো অপো জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধানক্ষেতে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মুক্তাগাছায় বর্ণাঢ্য র‌্যালী
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আজকের মেইল ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে।

বরিশালে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সূর্যমুখী চাষ, ছাড়িয়েছে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

ঢাকা অফিস
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

জেলার  বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রঙের ঝলমলে সূর্যমুখী ফুল চাষ হচ্ছে। সূর্যমুখী চাষে ছাড়িয়েছে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।

চলতি মৌসুমে বরিশাল বিভাগে সূর্যমুখী চাষে এসেছে বড় সাফল্য। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর সূর্যমূখী উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ৫৭৭ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষ হয়েছে ৯ হাজার ২৬৮ হেক্টরে।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার এই অর্জন শুধু সংখ্যায় নয় কৃষকদের বাড়তি আগ্রহেরও প্রমাণ। অনুকূল আবহাওয়া, কম খরচ এবং ভালো লাভের সম্ভাবনা- সব মিলিয়ে কৃষকরা ধীরে ধীরে ঝুঁকছেন এই ফসলের দিকে।

বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে সূর্যমুখীর চাষ। এবছর বিভাগের পটুয়াখালী জেলায় সবচেয়ে বেশি সুর্যমূখী চাষ হয়েছে। এরপর বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায়ও বিস্তীর্ণ জমিতে দেখা মিলছে এই সোনালি ফুলের।যেন প্রকৃতি নিজ হাতে সাজিয়েছে এক বিস্তৃত হলুদের রাজ্য। অনেক কৃষক এবার প্রথমবারের মতো এই চাষে নেমেছেন, আবার অনেকে আগের অভিজ্ঞতায় আরও জমিতে চাষ বাড়িয়েছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার কৃষক আবুল হোসেন জানান, প্রতি বছরই তিনি সূর্যমুখী চাষ করেন। তবে এবার পাশের জমিতেও চাষ বাড়িয়েছেন। লাভের আশায় আগ্রহও বেড়েছে তার। উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবছর খরচ বাঁচিয়ে লাভবান হওয়ার আশা তার।

বরিশালের বাবুগঞ্জের কৃষক শিবলু দাস বলেন, আগে যে জমি পরিত্যক্ত ছিল, এখন সেখানে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তিনি। গত বছরের চেয়ে এ বছর বেশি জমিতে সূর্যমূখী চাষ বেশি হয়েছে তার।

তিনি আরো বলেন, খরচ কম, লাভ বেশি- এই হিসাবই তাকে ধরে রেখেছে সূর্যমুখীর মাঠে। এমনকি কোম্পানির লোকজন এসে সরাসরি বীজ কিনে নিয়ে যাওয়ায় বাজার নিয়ে চিন্তাও কম।

কৃষকদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, মাত্র ২ হাজার ৫০০ টাকার বীজ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার তেল পাওয়া সম্ভব। ফলে সূর্যমুখী এখন শুধু একটি ফসল নয়, হয়ে উঠছে সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক বিকল্প।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, সূর্যমুখী বাংলাদেশের ভোজ্য তেলের বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বরিশাল অঞ্চলে ইতোমধ্যেই এই ফুল থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়েছে, যা আমদানী নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষকদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারলে আগামী দিনে এই চাষ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা তার।

এই সূর্যমুখীর মাঠ এখন শুধু কৃষকের আয়ের উৎস নয়, হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের এক নতুন গন্তব্য।

অনেকেই বলছেন, সূর্যমুখীর বাগানে ঢুকলেই মনে হয় যেন হলুদের এক স্বপ্নরাজ্যে প্রবেশ করা হয়েছে। চারপাশে ফুলের সমুদ্র, তার ভেতরে উড়ে বেড়ানো মৌমাছি সব মিলিয়ে এক জীবন্ত চিত্রকল্প। বড় বাগানে দাঁড়ালে সেই দৃশ্য যেন স্বর্গের মতো লাগে।

বরিশালের এই হলুদ বিপ্লব শুধু চোখের আরাম নয়, এটি কৃষকের স্বপ্নের বাস্তবতা, অর্থনীতির সম্ভাবনার নতুন দরজা। এটি দেশের আত্মনির্ভরতার পথে এক উজ্জ্বল পদক্ষেপ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


এই বিভাগের আরো সংবাদ