রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে দেশজ সংস্কৃতির এক অসাধারণ উপস্থাপনা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা বিভাগের অধ্যাপক ও চারুশিল্পী ড. আবদুস সোবাহান এককভাবে অঙ্কন করেছেন ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল স্ক্রলচিত্র, যা বর্তমানে প্রদর্শিত হচ্ছে অনুষদের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।
বাংলা ১৪৩২ সালের প্রথম দিনে, অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে, এই ব্যতিক্রমধর্মী শিল্পকর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব। স্ক্রলচিত্রটি তৈরি করতে ড. সোবাহানকে ব্যয় করতে হয়েছে টানা দুই মাসের নিরলস পরিশ্রম।
মিশ্রমাধ্যমে নির্মিত এ চিত্রে ফুটে উঠেছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ জীবনযাত্রার নানান রূপ—লোকজ উৎসব, বাংলা নববর্ষ, নবান্ন, পৌষসংক্রান্তি, লোকসংগীত, লোকসাহিত্য, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, শৈশবের স্মৃতি, কারুশিল্প, মৃৎশিল্প, মাছ ধরা, ও প্রাত্যহিক ব্যবহৃত উপকরণের নিখুঁত চিত্ররূপ।

দর্শনার্থীরা জানাচ্ছেন, এ চিত্র দেখে যেন তারা শৈশবের গ্রামে ফিরে গেছেন। তারা বলছেন, এত বড় একক স্ক্রলচিত্রের প্রদর্শনী দেশে এই প্রথম, যা একদিকে যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি শিল্পীসত্তার মুগ্ধকর বহিঃপ্রকাশ।
শিল্পী ড. আবদুস সোবাহান বলেন, “আমাদের হারিয়ে যাওয়া প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ সংস্কৃতিকে একত্র করে এই স্ক্রলচিত্র নির্মাণ করেছি। দর্শকদের প্রশংসা আমাকে আরও নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।”
প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীদের চোখে যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে অতীতের সেই সোনালি দিনগুলো—যেখানে শিকড়ে ফেরার আবেগ আর শিল্পের প্রতি ভালোবাসা মিশে একাকার হয়ে গেছে।